ওয়াল্ট হুইটম্যান (১৮১৯ - ১৮৯২)
লেখকের জীবনী
ওয়াল্ট হুইটম্যান (Walt Whitman) ১৮১৯ সালের ৩১শে মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের লং আইল্যান্ড অঞ্চলের ওয়েস্ট হিলস্ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার বাবা ওয়াল্টার (Walter) ছিলেন একজন শ্রমিক, কাঠমিস্ত্রি ও রাজমিস্ত্রি৷ তার মা লুইসা (Louisa) ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ কোয়াকার (Quaker)৷ ১৮২৩ সালে হুইটম্যানের পরিবার ব্রুকলিনে চলে যায় যেখানে হুইটম্যান ১৮২৫ সাল থেকে ১৮৩০ সাল পর্যন্ত স্কুলে অধ্যায়ণ করেন৷ ১৮৩০ সাল থেকে ১৮৩৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন যার বেশিরভাগই ব্রুকলিন ও ম্যানহাটানের সংবাদপত্র৷ ১৮৩৬ সাল থেকে ১৮৪১ সাল পর্যন্ত তিনি লং আইল্যান্ডের স্কুলে শিক্ষকতা করেন৷ ১৮৪১ সালে থেকে ১৮৫১ সাল পর্যন্ত হুইটম্যান বিভিন্ন পাক্ষিক ও সংবাদপত্র সম্পাদনা করেন৷ এসময়েই তিনি কাব্যরচনা শুরু করেন যেগুলো পরবর্তিতে লিভস্ অফ গ্রাস (Leaves of Grass) রুপে প্রকাশিত হয়
হুইটম্যানের জীবনে আমেরিকার গৃহযুদ্ধ একটি গুরুত্বপুর্ণ অধ্যায়৷ তিনি এসময় হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করেন৷ ১৮৬৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিঙ্কন (Abraham Lincoln) -এর গুপ্তহত্যা তাকে নাড়া দেয়৷ যার সাক্ষ্য বহন করে তার কিছু কবিতা৷
১৮৬৫ সালে হুইটম্যানকে, তার রচিত লিভস্ অফ গ্রাস কে অশোভন রচনা হিসেবে অভিযুক্ত করে, ওয়াশিংটনে তার ভূমি ও প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর (Department of the Interior) -এর চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়৷ এরপর তাকে এটর্নি জেনারেল (Attorney General) -এর দপ্তরে নিয়োগ দেওয়া হয় যেখানে তিনি মৃদু প্যারালাইসিস (Mild Paralytic attack) রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত অব্যাহত ছিলেন৷ তিনি ১৮৭৩ সালে এ রোগে আক্রান্ত হোন এবং এর ফলে তার শরীর আংশিক অবশ হয়ে যায়৷ হুইটম্যান তার জীবনের শেষ বছরগুলি নিউ জার্সি (New Jersey) রাজ্যের ক্যামডেন (Camden) -এ কেনা নিজের বাড়িতে, নিজের কামরাতে কাটান৷ এসময় হুইটম্যান তার দুজন বন্ধু, ট্র্যুবেল (Traubel) ও হারনেড (Harned) -এর সানিধ্যে কাটাতেন৷ ওয়াল্ট হুইটম্যান ১৮৯২ সালের ২৬শে মার্চ মৃত্যূবরণ করেন এবং ক্যামডেন -এর হারলেই সমাধিক্ষেত্রে সমাহিত হোন৷
ওয়াল্ট হুইটম্যান ছিলেন মার্কিন সাহিত্যের ইতিহাসে একইসাথে একজন বিখ্যাত কবি ও অসাধারণ ব্যাক্তিত্ব৷ তিনি একদম অখ্যাতি থেকে স্মরণীয় খ্যাতি লাভ করেন এবং জাতীয় ব্যাক্তিত্ব হিসেবে গন্য হোন৷ তার অর্জন অসামান্য তবে সেগুলো কখনও কখনও অন্যায্য (unfair), শত্রুতাপূর্ণ (hostile), সমালোচনামূলক (criticism) হিসেবে অমূল্যায়িত কিংবা অতিরিক্ত প্রশংসিত হয়৷ তিনি সত্যিকার অর্থে একজন কবি যাকে একই সাথে একজন দার্শনিক (philisopher), মরমী (mystic) কিংবা সমালোচক (critic) হিসেবেও গণ্য করা হয়৷
উল্লেখযোগ্য কর্ম
- পোয়োমস্ অফ হুইটম্যানঃ লিভস্ অফ গ্রাস (Poems of Whitman: Leaves of Grass:) ১৮৫৫ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়৷ এরপর বিভিন্ন সংস্কররণ প্রকাশ হওয়ার পর ১৮৯১-৯২ সালে সর্বশেষ সংস্করণ প্রকাশিত হয়৷
- ড্রাম-ট্যাপস্ (Drum-Taps)১৮৬৫ সালে প্রকাশিত হয়৷
- প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া (Passage to India) ১৮৭১ সালে প্রকাশিত হয়৷
- আফটার অল. নট টু ক্রিয়েট অনলি (After All, Not to Create Only) ১৮৭১ সালে প্রকাশিত হয়৷
- অ্যাজ এ স্ট্রং বার্ড অন পিনিয়নস্ ফ্রি (As a Strong Bird on Pinons Free) ১৮৭২ সালে প্রকাশিত হয়৷
- ট্যু রাইভ্যুলেটস্ (Two Rivulets) ১৮৭৬ সালে প্রকাশিত হয়৷
- নভেম্বর বাউজ (November Boughs) ১৮৮৮ সালে প্রকাশিত হয়৷
- গুড-বাই মাই ফেন্সি (Good-bye My Fancy) ১৮৯১ সালে প্রকশিত হয়৷
- এ্যাসে, নোটস্ এন্ড স্টাডিজঃ ডেমোক্রেটিক ভিসতাস্ (Essays, Notes and studies: Democratic Vistas) ১৮৭১ সালে প্রকাশিত হয়৷
- মেমরেন্ডা ডিউরিং দ্যা ওয়ার (Memoranda During the War) ১৮৭৫-৭৬ সালে প্রকাশিত হয়৷
- স্পেসিমেন ডেইজ এন্ড কালেক্ট (Specimen Days and Collect) ১৮৮২-৮৩ সালে প্রকাশিত হয়৷
- কমপ্লিট প্রোজ ওয়ার্ক্স (Complete Prose Works) ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয়
- এন আমেরিকান প্রাইমার (An American Primer) ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়৷
- লেটারস্ এন্ড জার্নালস্ঃ ক্যালাসাম (Letters and Journals: Calamus), বাক (Bucke) কর্তৃক সম্পাদিত ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত হয়৷
- দ্যা ওয়াউন্ড ড্রেসার (The Wound Dresser) ১৮৯৮ সালে প্রকাশিত হয়৷
- লেচারস্ রিটেন বাই হুইটম্যানন টু হিজ মাদার (Letter Written by Whitman to His Mother) ১৮৬৬-৭২ সালে প্রকাশিত হয়৷
- ওয়াল্ট হুইটম্যানস্ ডায়রি (Walt Whitman's Diary)
- উপন্যাসঃ ফ্র্যাঙ্কলিন ইভানস্ (Novel: Franklin Evans) ১৮৪২ সালে প্রকাশিত হয়৷
- ছোট গল্পঃ দ্যা হার্ড-ব্রীড এন্ড আদার স্টোরিস (Short Stories: The Hard-Breed and other Stories) ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়৷
হোয়েন লাইলাকস্ লাস্ট ইন দ্যা ডোরইয়ার্ড ব্লুমড্
(When Lilacs Last in the Dooryard Bloom'd)
সারমর্মঃ কবিতাটিকে তনটি অংশে বিভক্ত করা যায়৷ প্রথম অংশটি ১ - ৪ স্তবকে বিভক্ত৷ প্রথম অংশে কবিতার পটভূমি নির্দেশিত হয়৷
কবি গত বসন্তে তার বাড়ির দরজার সামনে লাইলাক ফুল ফুটতে দেখে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন (Abraham Lincoln) -এর মৃত্যূতে শোকোহত হোন৷ তিনি প্রতি বসন্তেই এভাবে শোকাহত হবেন কেননা প্রতিটা বসন্তই তার কাছে চিরকাল ধরে ফোটা লাইলাক ফুল, পষ্চিমে হেলে পড়া শুক্র গ্রহ এবং কবির প্রিয়জন (লিঙ্কন) - এই তিনটি বিষয় (Trinity) স্মরণ করিয়ে দেয়৷
কবি প্রিয়জনের মৃত্যূতে দুঃখ ভারাক্রান্ত৷ তাই তিনি দুঃখভরা মন নিয়ে নিচের দিকে হেলে যাওয়া তারা, মনমরা ক্রন্দনরত রাতের অন্ধকার, নিকষ অন্ধকার যা তারাগুলোকে ঢেকে দেয় এবং চারপাশের দুঃখী মেঘগুলোকে সম্মোধন করেন৷
পুরোনো একটি খামার বাড়ির সামনে লাইলাক ফুলের ঝোপ বেড়ে উঠেছে৷ ফুলগাছের পাতা অনেকটা হৃদয়াকৃতির (heart-shaped) ও গাড় সবুজ রংয়ের৷ ফুলের কুঁড়ি (blossoms) বিভিন্নমুখী ও তীব্র সুগন্ধযুক্ত৷ কবি ফুল ও পাতা সহ একটি ডাল ভাঙ্গলেন৷
একটি লাজুক ও নির্জন স্বমুখী গায়ক পাখি (Thrush), জলাভূমি (swamp) -র ধারে বসে দুঃখের গান গাইছিল৷ তার এই গান যেন জীবনের কাছে মৃত্যূদ্বার (death's-outlet-song) সম৷
কবিতার এই প্রথম অংশে কবি, কবিতার তিনটি প্রতীকের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেন৷ সেগুলো হলো, ১৷ লাইলাক ফুল, ২৷ তারা ও ৩৷ গায়ক পাখি৷ এবং উক্ত অংশে কবি তার প্রিয়জন (আব্রাহাম লিঙ্কন) -এর জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন৷
কবিতার দ্বিতীয় অংশটি ৫ - ৯ স্তবকে বিভক্ত৷ উক্ত অংশে রয়েছে আমেরিকার বাস্তবতার চিত্র ফোটে ওঠা বিভিন্ন প্রকৃতি ও শিল্প নগরীর দৃশ্য ও তার মধ্য দিয়ে কফিনের যাত্রার বর্ণনা৷
আব্রাহাম লিঙ্কনের কফিন বসন্তের ভূমি, শহর ও সড়ক, বন, ঘাস, হলুদ গমক্ষেত এবং আপেল গাছের সাদা ও গোলাপি ফুলের ঝোপের মধ্য দিয়ে শেষ ঠিকানায় পৌছাতে রাতভর যাত্রা করছে৷
কফিনটি মেঘে ঢাকা অন্ধকার বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে৷ যাচ্ছে বিভিন্ন শোকাহত নগরীর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ শোকাহত মানুষের ঢল পেরিয়ে, রাতের আলো ঝলমলে মশাল পেরিয়ে৷ রাতভর গাওয়া শোকগীতির মধ্য দিয়ে, মৃদু আলোকিত গির্জার পাশ দিয়ে যেখানে অনন্তকাল জুড়ে ঘন্টাধ্বনি বাজতে থাকে৷ ধীর গতিতে বয়ে নিয়ে যাওয়া কফিনে কবি তার ভাঙ্গা ডালটি অর্পণ করেন৷
কবি ফুল ও পাতাটি কেবল মৃত লিঙ্কনের জন্য আনেননি বরং সকল মৃতদের জন্য এবং স্বয়ং মৃত্যূর জন্যও এনেছেন৷
লিঙ্কনের মৃত্যুর প্রায় এক মাস আগেই কবির মনে হয়েছিল যে, যখন তিনি স্বচ্ছ, অন্ধকার রাতে নিরবে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন তাকে পষ্চিমা তারার কিছু বলার ছিল৷ তারাটি ক্রমশ নিচে নেমে কবির পাশে অবস্থান করছিল৷ রাত যত অগ্রসর হচ্ছিল, তখন কবি পশ্চিমাকাশে তাকিয়ে দেখলেন যে তারাটি যেন দুঃখ ভারাক্রান্ত৷ তারাটি পুরোপুরি হেলে গিয়ে নিশ্চিহ্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত কবি তারাটিকে দেখছিলেন৷
জলাভূমির ধারে বসে গান গাওয়া লাজুক ও তরুণ গায়ক পাখি যেন কবিকে ডাকছিল৷ কবি শুনতে পেয়ে তার কাছে ছুটে যান৷
কবিতার তৃতীয় অংশটি ১০ - ১৩ স্তবকে বিভক্ত৷ এ অংশে কবি ভাবেন কিভাবে তিনি গত হওয়া বিশাল ও মধুর আত্মার জন্য গান গাইবেন৷ তিনি এও ভাবেন যে তিনি তার ভালোবাসার মানুষের কবরকে সবুজ প্রান্তর (prairies) -এ মিশে যাওয়া পশ্চিমা সমুদ্রের বাতাস (sea-winds blown from the western sea) -এর সুগন্ধে সুবাসিত করবেন কিনা৷ কিংবা তার ভজন (chant) -এর প্রশ্বাসে সুবাসিত করবেন কিনা৷
কবি নিজেকে প্রশ্ন করেন যে তিনি কবরস্থানের কবরগৃহের দেয়ালে কি ঝোলাবেন এবং কোন ধরণের ছবি তার ভালোবাসার মানুষের কবরগৃহকে অলঙ্কৃত করবে৷ ছবিগুলো হবে বিকশিত হওয়া বসন্তকালের, ঘরের, খামারের, নির্মল ধূসর ধোঁয়ার৷ থাকবে ঝলমলে অলস সূর্যাস্তের হলদে সোনালী আভার ছবি৷ থাকবে পায়ের নিচের নরম ঘাসের ছবি, মলিন হওয়া উর্বর গাছের পাতার ছবি এবং উজ্জ্বল প্রবাহমান নদীর ছবি৷ আরোও থাকবে হাতে ঘনবসতিপূর্ণ ও অনেকগুলো চুল্লি পূর্ণ শহরের ছবি, জীবন ও কর্মের ছবি৷
এরপর কবি দর্শকদেরকে ম্যানহাটান (Manhattan) -এর জোড়ালো শব্দ, তার শরীর ও মন - ম্যানহাটানের সুউচ্চ চূড়ার দিকে তাকাতে বলেন৷ তাকাতে বলেন দ্রুত ও জ্বলজ্বলে জোয়ারের দিকে, দুরের দিগন্ত ছোঁয়া প্রন্তরের দিকে৷ আরোও তাকাতে বলেন উদ্ধত সূর্যের দিকে, বেগুনী ও গোলাপী প্রভাতের দিকে৷ আগত সুস্বাদু বিকালের দিকে, স্বাগত তারা ঝলমলে শহুরে রাতের দিকে যা মানুষ ও ভূমিকে আচ্ছাদিত করে৷
এরপর কবি জলাধারের কাছে থাকা ধূসর বাদামি পাখিকে প্রচণ্ড দুঃখের গান গাইতে বলেন৷ তিনি পাখির কাছে যেতে চান৷ কিন্তু তারা ও সুগন্ধযুক্ত লাইলাক ফুল তাকে আটকায়৷
১৪ -১৬ স্তবক নিয়ে চতুর্থ অংশ গঠিত যেখানে কবি কবিতার বিগত তিনটি খণ্ডের বিষয়বস্তুর ক্ষুদ্র পরিসরে পুনরালোচনা করেন৷
কবি বসন্তের বসে বসে আলো ও মাঠের মাঝে বসন্তের দিনের শেষ হওয়া দেখছিলেন৷ কৃষকদেরকে, তাদের শস্য প্রস্তুত করতে দেখছিলেন৷ সেইসাথে তাদের জমিজমা, আকাশ, পৃথিবী, নদ-নদী, পাহাড়, নগর, লোকজন, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট৷ হঠাৎ, সেখানে উপস্থিত হয় শবযাত্রার লম্বা মিছিল৷ যেন সবকিছুকে, এমনকি স্বয়ং কবিকেও আচ্ছাদিত করে যায়৷ তিনি মৃত ব্যক্তিকে জানতেন এবং তাদের সাথে চলতে শুরু করলেন৷ অপেক্ষমান রাত তাদেরকে বরণ করল৷ সেই সাথে গানের পাখি তাদের তিনজনকে - মৃতের জ্ঞান (knowledge of death), মাঝে কবি ও মৃত্যূকে (death) বরণ করে নেয়৷ পাখিটি মৃত্যুর গান এবং কবির প্রিয়জনের জন্য কিছু চরণ গাইছিল৷ গানটা যেন কবির ভেতরে প্রবেশ করল এবং তার আত্মার কণ্ঠের সাথে মিলে গেল৷
এরপর কবি মৃতকে স্বাগত জানালেন, সকলের মধ্যে আগমণ করার জন্য৷ কবির কাছে মনে হলো শীতলতাপূর্ণ মৃত্যু যেন একজন কালো মায়ের মতো যিনি নরম পায়ে ক্রমশ কাছে আসছেন৷ তিনি মৃতের জন্য স্তবগীতি রচনা করলেন এবং মৃতকে আমন্ত্রণ করলেন "কঠিন ত্রাণকর্তা" (strong deliverers) হিসাবে৷ কবি মৃতের জন্য সান্ধকালীন সঙ্গীত (serenades) পরিবেশন, অভিবাদন (saluting) জানালেন, অলঙ্কৃত (adornment) করলেন ও ভোজন (feast) পরিবেশণ করলেন৷ পরিবেশের সকল উপাদান, আকাশ ও পৃথিবী ও তার বিশাল বিস্তৃত দৃশ্য (panorama) যেন মৃতের জন্য সুসজ্জিত৷ সেই ধূসর বাদামি পাখিটা গান তারস্বরে গাওয়া গেয়ে গেল৷ গানের কথাগুলো যেন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল৷ সেসময় কবি তার দুই সহোচর, মৃত্যূ ও মৃত্যূর জ্ঞানের সাথে ছিলেন৷ কবির চোখ দিগন্ত জোড়া বিস্তৃত৷ কবি তার কল্পিত দৃশ্যে দেখলেন শত শত পতাকা ও যুদ্ধের ধ্বংস লীলা, অসংখ্য মৃতের সারি, যুবকদের সাদা কঙ্কাল ও তাদের দেহের ছিন্ন-ভিন্ন অংশ৷ কিন্তু মৃতরা যেন কষ্টেনেই, তারা কেবল বিশ্রামরত৷
কবি রাত, গানের পাখির গান ও লাইলাক ফুল পেরিয়ে চলতে থাকেন৷ তিনি লাইলাক ফুল, পশ্চিম আকাশের তারা, পশ্চিম দিক, রাতের রুপালি মুখধারী সহোচর তারার জন্য গান গাওয়া থামিয়ে দেন৷ সবার থেকে সবকিছু ফেরত নিয়ে নিলেন৷ শুধু তার প্রিয়জনের কথা ভেবে কবি লাইলাক, তারা, গান গাওয়া পাখিকে মনে রাখলেন৷
ও ক্যাপ্টেন! মাই ক্যাপ্টেন! (O Captain! My Captain!)
সারমর্মঃ কবি তার দুঃখ প্রতীকিের, উপমা ও অন্যান্য সাহিত্যিক উপাদানের সাহাযে প্রকাশ করেছেন৷ প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন (Abraham Lincoln) রুপক অর্থে ক্যাপ্টেন, মার্কিন জাতি রুপক অর্থে জাহাজ ও দাসপ্রথা বিলোপ অভিযান হলো রুপক অর্থে জাহাজের বিপজ্জনক অভিযাত্রা৷ কবি ক্যাপ্টেনকে সম্মোধন করে বলেন যে বিপজ্জনক অভিযাত্রা শেষ হয়েছে৷ লোকেরা তীরে উল্লাস করছে সেই সাথে জাহাজও ঘাটের দিকে অগ্রসর হচ্ছে৷ কিন্তু জাহাজের ক্যাপ্টেন মৃত অবস্থায় শুয়ে আছেন, তার মাথা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে৷
কবি ক্যাপ্টেনকে উঠতে বলেন, লোকেরা তার জন্য ফুলের তোড়া ও মালা নিয়ে তীরে অপেক্ষা করছে৷ ক্যাপ্টেন মৃত একথা ভুলে তিনি ক্যাপ্টেনের মাথার পেছনে হাত রেখে তার মাথাকে উঁচু করলেন৷
ক্যাপ্টেন কথার উত্তর দেন না৷ তিনি মৃত৷ জাহাজটি নিরাপদে নোঙর করেছে৷ লোকেরা ক্যাপ্টেনের সফলতায় উল্লাস করছে৷ কিন্তু কবি জাহাজের ডেকে পায়চারি করতে লাগলেন যেখানে ক্যাপ্টেনের নিথর দেহ পড়ে আছে৷ তিনি দুঃখ ভারাক্রাণ্ত মনে এদিক-সেদিক পায়চারি করতে লাগলেন৷
স্টাডি গাইড থেকে অনুপ্রাণিত...
সারমর্মঃ কবিতাটিকে তনটি অংশে বিভক্ত করা যায়৷ প্রথম অংশটি ১ - ৪ স্তবকে বিভক্ত৷ প্রথম অংশে কবিতার পটভূমি নির্দেশিত হয়৷
কবি গত বসন্তে তার বাড়ির দরজার সামনে লাইলাক ফুল ফুটতে দেখে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন (Abraham Lincoln) -এর মৃত্যূতে শোকোহত হোন৷ তিনি প্রতি বসন্তেই এভাবে শোকাহত হবেন কেননা প্রতিটা বসন্তই তার কাছে চিরকাল ধরে ফোটা লাইলাক ফুল, পষ্চিমে হেলে পড়া শুক্র গ্রহ এবং কবির প্রিয়জন (লিঙ্কন) - এই তিনটি বিষয় (Trinity) স্মরণ করিয়ে দেয়৷
কবি প্রিয়জনের মৃত্যূতে দুঃখ ভারাক্রান্ত৷ তাই তিনি দুঃখভরা মন নিয়ে নিচের দিকে হেলে যাওয়া তারা, মনমরা ক্রন্দনরত রাতের অন্ধকার, নিকষ অন্ধকার যা তারাগুলোকে ঢেকে দেয় এবং চারপাশের দুঃখী মেঘগুলোকে সম্মোধন করেন৷
পুরোনো একটি খামার বাড়ির সামনে লাইলাক ফুলের ঝোপ বেড়ে উঠেছে৷ ফুলগাছের পাতা অনেকটা হৃদয়াকৃতির (heart-shaped) ও গাড় সবুজ রংয়ের৷ ফুলের কুঁড়ি (blossoms) বিভিন্নমুখী ও তীব্র সুগন্ধযুক্ত৷ কবি ফুল ও পাতা সহ একটি ডাল ভাঙ্গলেন৷
একটি লাজুক ও নির্জন স্বমুখী গায়ক পাখি (Thrush), জলাভূমি (swamp) -র ধারে বসে দুঃখের গান গাইছিল৷ তার এই গান যেন জীবনের কাছে মৃত্যূদ্বার (death's-outlet-song) সম৷
কবিতার এই প্রথম অংশে কবি, কবিতার তিনটি প্রতীকের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেন৷ সেগুলো হলো, ১৷ লাইলাক ফুল, ২৷ তারা ও ৩৷ গায়ক পাখি৷ এবং উক্ত অংশে কবি তার প্রিয়জন (আব্রাহাম লিঙ্কন) -এর জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন৷
কবিতার দ্বিতীয় অংশটি ৫ - ৯ স্তবকে বিভক্ত৷ উক্ত অংশে রয়েছে আমেরিকার বাস্তবতার চিত্র ফোটে ওঠা বিভিন্ন প্রকৃতি ও শিল্প নগরীর দৃশ্য ও তার মধ্য দিয়ে কফিনের যাত্রার বর্ণনা৷
আব্রাহাম লিঙ্কনের কফিন বসন্তের ভূমি, শহর ও সড়ক, বন, ঘাস, হলুদ গমক্ষেত এবং আপেল গাছের সাদা ও গোলাপি ফুলের ঝোপের মধ্য দিয়ে শেষ ঠিকানায় পৌছাতে রাতভর যাত্রা করছে৷
কফিনটি মেঘে ঢাকা অন্ধকার বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে৷ যাচ্ছে বিভিন্ন শোকাহত নগরীর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ শোকাহত মানুষের ঢল পেরিয়ে, রাতের আলো ঝলমলে মশাল পেরিয়ে৷ রাতভর গাওয়া শোকগীতির মধ্য দিয়ে, মৃদু আলোকিত গির্জার পাশ দিয়ে যেখানে অনন্তকাল জুড়ে ঘন্টাধ্বনি বাজতে থাকে৷ ধীর গতিতে বয়ে নিয়ে যাওয়া কফিনে কবি তার ভাঙ্গা ডালটি অর্পণ করেন৷
কবি ফুল ও পাতাটি কেবল মৃত লিঙ্কনের জন্য আনেননি বরং সকল মৃতদের জন্য এবং স্বয়ং মৃত্যূর জন্যও এনেছেন৷
লিঙ্কনের মৃত্যুর প্রায় এক মাস আগেই কবির মনে হয়েছিল যে, যখন তিনি স্বচ্ছ, অন্ধকার রাতে নিরবে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন তাকে পষ্চিমা তারার কিছু বলার ছিল৷ তারাটি ক্রমশ নিচে নেমে কবির পাশে অবস্থান করছিল৷ রাত যত অগ্রসর হচ্ছিল, তখন কবি পশ্চিমাকাশে তাকিয়ে দেখলেন যে তারাটি যেন দুঃখ ভারাক্রান্ত৷ তারাটি পুরোপুরি হেলে গিয়ে নিশ্চিহ্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত কবি তারাটিকে দেখছিলেন৷
জলাভূমির ধারে বসে গান গাওয়া লাজুক ও তরুণ গায়ক পাখি যেন কবিকে ডাকছিল৷ কবি শুনতে পেয়ে তার কাছে ছুটে যান৷
কবিতার তৃতীয় অংশটি ১০ - ১৩ স্তবকে বিভক্ত৷ এ অংশে কবি ভাবেন কিভাবে তিনি গত হওয়া বিশাল ও মধুর আত্মার জন্য গান গাইবেন৷ তিনি এও ভাবেন যে তিনি তার ভালোবাসার মানুষের কবরকে সবুজ প্রান্তর (prairies) -এ মিশে যাওয়া পশ্চিমা সমুদ্রের বাতাস (sea-winds blown from the western sea) -এর সুগন্ধে সুবাসিত করবেন কিনা৷ কিংবা তার ভজন (chant) -এর প্রশ্বাসে সুবাসিত করবেন কিনা৷
কবি নিজেকে প্রশ্ন করেন যে তিনি কবরস্থানের কবরগৃহের দেয়ালে কি ঝোলাবেন এবং কোন ধরণের ছবি তার ভালোবাসার মানুষের কবরগৃহকে অলঙ্কৃত করবে৷ ছবিগুলো হবে বিকশিত হওয়া বসন্তকালের, ঘরের, খামারের, নির্মল ধূসর ধোঁয়ার৷ থাকবে ঝলমলে অলস সূর্যাস্তের হলদে সোনালী আভার ছবি৷ থাকবে পায়ের নিচের নরম ঘাসের ছবি, মলিন হওয়া উর্বর গাছের পাতার ছবি এবং উজ্জ্বল প্রবাহমান নদীর ছবি৷ আরোও থাকবে হাতে ঘনবসতিপূর্ণ ও অনেকগুলো চুল্লি পূর্ণ শহরের ছবি, জীবন ও কর্মের ছবি৷
এরপর কবি দর্শকদেরকে ম্যানহাটান (Manhattan) -এর জোড়ালো শব্দ, তার শরীর ও মন - ম্যানহাটানের সুউচ্চ চূড়ার দিকে তাকাতে বলেন৷ তাকাতে বলেন দ্রুত ও জ্বলজ্বলে জোয়ারের দিকে, দুরের দিগন্ত ছোঁয়া প্রন্তরের দিকে৷ আরোও তাকাতে বলেন উদ্ধত সূর্যের দিকে, বেগুনী ও গোলাপী প্রভাতের দিকে৷ আগত সুস্বাদু বিকালের দিকে, স্বাগত তারা ঝলমলে শহুরে রাতের দিকে যা মানুষ ও ভূমিকে আচ্ছাদিত করে৷
এরপর কবি জলাধারের কাছে থাকা ধূসর বাদামি পাখিকে প্রচণ্ড দুঃখের গান গাইতে বলেন৷ তিনি পাখির কাছে যেতে চান৷ কিন্তু তারা ও সুগন্ধযুক্ত লাইলাক ফুল তাকে আটকায়৷
১৪ -১৬ স্তবক নিয়ে চতুর্থ অংশ গঠিত যেখানে কবি কবিতার বিগত তিনটি খণ্ডের বিষয়বস্তুর ক্ষুদ্র পরিসরে পুনরালোচনা করেন৷
কবি বসন্তের বসে বসে আলো ও মাঠের মাঝে বসন্তের দিনের শেষ হওয়া দেখছিলেন৷ কৃষকদেরকে, তাদের শস্য প্রস্তুত করতে দেখছিলেন৷ সেইসাথে তাদের জমিজমা, আকাশ, পৃথিবী, নদ-নদী, পাহাড়, নগর, লোকজন, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট৷ হঠাৎ, সেখানে উপস্থিত হয় শবযাত্রার লম্বা মিছিল৷ যেন সবকিছুকে, এমনকি স্বয়ং কবিকেও আচ্ছাদিত করে যায়৷ তিনি মৃত ব্যক্তিকে জানতেন এবং তাদের সাথে চলতে শুরু করলেন৷ অপেক্ষমান রাত তাদেরকে বরণ করল৷ সেই সাথে গানের পাখি তাদের তিনজনকে - মৃতের জ্ঞান (knowledge of death), মাঝে কবি ও মৃত্যূকে (death) বরণ করে নেয়৷ পাখিটি মৃত্যুর গান এবং কবির প্রিয়জনের জন্য কিছু চরণ গাইছিল৷ গানটা যেন কবির ভেতরে প্রবেশ করল এবং তার আত্মার কণ্ঠের সাথে মিলে গেল৷
এরপর কবি মৃতকে স্বাগত জানালেন, সকলের মধ্যে আগমণ করার জন্য৷ কবির কাছে মনে হলো শীতলতাপূর্ণ মৃত্যু যেন একজন কালো মায়ের মতো যিনি নরম পায়ে ক্রমশ কাছে আসছেন৷ তিনি মৃতের জন্য স্তবগীতি রচনা করলেন এবং মৃতকে আমন্ত্রণ করলেন "কঠিন ত্রাণকর্তা" (strong deliverers) হিসাবে৷ কবি মৃতের জন্য সান্ধকালীন সঙ্গীত (serenades) পরিবেশন, অভিবাদন (saluting) জানালেন, অলঙ্কৃত (adornment) করলেন ও ভোজন (feast) পরিবেশণ করলেন৷ পরিবেশের সকল উপাদান, আকাশ ও পৃথিবী ও তার বিশাল বিস্তৃত দৃশ্য (panorama) যেন মৃতের জন্য সুসজ্জিত৷ সেই ধূসর বাদামি পাখিটা গান তারস্বরে গাওয়া গেয়ে গেল৷ গানের কথাগুলো যেন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল৷ সেসময় কবি তার দুই সহোচর, মৃত্যূ ও মৃত্যূর জ্ঞানের সাথে ছিলেন৷ কবির চোখ দিগন্ত জোড়া বিস্তৃত৷ কবি তার কল্পিত দৃশ্যে দেখলেন শত শত পতাকা ও যুদ্ধের ধ্বংস লীলা, অসংখ্য মৃতের সারি, যুবকদের সাদা কঙ্কাল ও তাদের দেহের ছিন্ন-ভিন্ন অংশ৷ কিন্তু মৃতরা যেন কষ্টেনেই, তারা কেবল বিশ্রামরত৷
কবি রাত, গানের পাখির গান ও লাইলাক ফুল পেরিয়ে চলতে থাকেন৷ তিনি লাইলাক ফুল, পশ্চিম আকাশের তারা, পশ্চিম দিক, রাতের রুপালি মুখধারী সহোচর তারার জন্য গান গাওয়া থামিয়ে দেন৷ সবার থেকে সবকিছু ফেরত নিয়ে নিলেন৷ শুধু তার প্রিয়জনের কথা ভেবে কবি লাইলাক, তারা, গান গাওয়া পাখিকে মনে রাখলেন৷
ও ক্যাপ্টেন! মাই ক্যাপ্টেন! (O Captain! My Captain!)
সারমর্মঃ কবি তার দুঃখ প্রতীকিের, উপমা ও অন্যান্য সাহিত্যিক উপাদানের সাহাযে প্রকাশ করেছেন৷ প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন (Abraham Lincoln) রুপক অর্থে ক্যাপ্টেন, মার্কিন জাতি রুপক অর্থে জাহাজ ও দাসপ্রথা বিলোপ অভিযান হলো রুপক অর্থে জাহাজের বিপজ্জনক অভিযাত্রা৷ কবি ক্যাপ্টেনকে সম্মোধন করে বলেন যে বিপজ্জনক অভিযাত্রা শেষ হয়েছে৷ লোকেরা তীরে উল্লাস করছে সেই সাথে জাহাজও ঘাটের দিকে অগ্রসর হচ্ছে৷ কিন্তু জাহাজের ক্যাপ্টেন মৃত অবস্থায় শুয়ে আছেন, তার মাথা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে৷
কবি ক্যাপ্টেনকে উঠতে বলেন, লোকেরা তার জন্য ফুলের তোড়া ও মালা নিয়ে তীরে অপেক্ষা করছে৷ ক্যাপ্টেন মৃত একথা ভুলে তিনি ক্যাপ্টেনের মাথার পেছনে হাত রেখে তার মাথাকে উঁচু করলেন৷
ক্যাপ্টেন কথার উত্তর দেন না৷ তিনি মৃত৷ জাহাজটি নিরাপদে নোঙর করেছে৷ লোকেরা ক্যাপ্টেনের সফলতায় উল্লাস করছে৷ কিন্তু কবি জাহাজের ডেকে পায়চারি করতে লাগলেন যেখানে ক্যাপ্টেনের নিথর দেহ পড়ে আছে৷ তিনি দুঃখ ভারাক্রাণ্ত মনে এদিক-সেদিক পায়চারি করতে লাগলেন৷
স্টাডি গাইড থেকে অনুপ্রাণিত...
No comments:
Post a Comment